সারাদেশ

চট্টগ্রামে নিজ ঘরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, লাশ দাফন বাবার বাড়িতে

  প্রতিনিধি ২ মে ২০২৩ , ৪:৫৮:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিজ ঘরে রহস্যজনক মৃত্যু হওয়া গৃহবধূ জেরিন আকতারের (২২) লাশ ময়নাতদন্তের পর তার বাবার বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। তবে সেখানে নিহতের শ্বশুরবাড়ির কোনো লোকজন উপস্থিত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। 

সোমবার (১ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর লাশ নিয়ে আসা হয় তার বাবার বাড়ি উপজেলার ছনহরা ইউনিয়নের আলামদার পাড়া এলাকার মটপাড়া গ্রামে।

এদিকে নিহত গৃহবধূ জেরিন আকতার নামাজে জানাজা আলামদার পাড়া বায়তুল জামে মসজিদের মাঠে সোমবার মাগরিবের নামাজের পর অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা আবদুল মজিদ আল কাদেরী। এরপর রাতেই স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

নিহত গৃহবধূর মামা ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ রিদোয়ান বলেন, আমরা এ ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করব রাতে। আমাদের কাজ শেষ পর্যায়ে। পুলিশ আমাদের আশ্বস্ত করেছেন এ ঘটনায় সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। আমি আশা করছি আমাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি হত্যা মামলা রুজু করার জন্য সার্বিক ব্যবস্থা করবেন পুলিশ। আমরা তাদের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাব।

রবিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের শেখ মোহাম্মদ পাড়ার শ্বশুরবাড়িতে নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধূ জেরিন আকতারের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই নিহত গৃহবধূর প্রবাসী স্বামী দিদারুল আলমসহ পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে। 

জানা যায়, উপজেলার ছনহরা ইউনিয়নের আলামদার পাড়ার মটপাড়া গ্রামের আমির আলামদারের বড় মেয়ে জেরিন আকতারে বিয়ে হয় একই উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের শেখ মোহাম্মদ পাড়ার মৃত সালামত আলী খানের দুবাই প্রবাসী ছেলে দিদারুল আলমের সঙ্গে ২০২০ সালের মার্চে করোনাকালীন সময়ে। রবিবার বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সন্ধ্যায় ঘরের জানালা দিয়ে দেখতে পায় গৃহবধূ জেরিন আকতারের ঝুলন্ত লাশ। এসময় তারা চিৎকার চেঁচামেচি করলে আশপাশের লোকজন এসে দ্রুত রশিতে ঝুলানো অবস্থায় গৃহবধূ জেরিন আকতারকে নিচে নামান। 

গতকাল রবিবার ১০টার সময় পটিয়া থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ওসি প্রিটন সরকার, ওসি (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক বিভাস কুমার সাহাসহ পুলিশের একটি দল। এসময় তারা লাশটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশটির ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছিলেন।

এদিকে নিহত গৃহবধূর পরিবার সূত্রে জানা যায়, যেহেতু করোনাকালীন বিধিনিষেধের সময় তাদের বিয়ে হয়েছিল তখন কোনো সামাজিকভাবে অনুষ্ঠান করা হয়নি। তখন কথা ছিল পরবর্তী সময়ের যে কোনো দিন বরপক্ষের লোকজনকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো হবে। এ নিয়ে তাদের মেয়েকে বিভিন্ন সময় শ্বশুরবাড়ির লোকজন জ্বালাতন করতেন।

পটিয়া থানার ওসি প্রিটন সরকার বলেন, নিহত গৃহবধূ জেরিন আকতারের লাশ চট্টগ্রাম মেডিক্যল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর বিকেলে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ আমাদের কাছে দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content