অনশন

তাড়াশে ওসির বাড়িতে বিয়ের দাবিতে এক নারীর অনশন

  প্রতিনিধি ২৩ জুন ২০২৩ , ৪:৪৪:১২ প্রিন্ট সংস্করণ

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জে) প্রতি‌নি‌ধি:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিয়ের দাবিতে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম রেজা চৌধুরীর (৪৯) বাড়িতে অনশনে বসেছেন এক নারী উদ্যোক্তা (৩৩)। ওই নারী উদ্যোক্তার বা‌ড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানার খোলসী গ্রামে।

বুধবার (২১ জুন) সকাল ১০টা থেকে এ ঘটনা ঘটে তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বানিয়াবহু গ্রামে।

সেলিম রেজা চৌধুরী বানিয়াবহু গ্রামের মৃত মান্নান চৌধুরীর ছেলে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বিয়ের দাবিতে অনশনে থাকা ওই নারী উদ্যোক্তা বলেন, ওসি (সেলিম রেজা) হয় বিয়ে করুক, না হয় মেরে ফেলুক। এ ছাড়া আমি ওর বাড়ি থেকে কোথাও যাবো না।

ওসির সাথে কিভাবে সম্পর্ক হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২০ সালের শেষ দিকে ওসি সেলিম রেজা নাচোল থানার ওসি থাকাকালে আমার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে মামলা সংক্রান্ত কাজে যাওয়া-আসা সূত্রে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা পরে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। পরে বিয়ের আশ্বাস দেখিয়ে জেলা শহরের নাখেরাজপাড়ায় ওসির ভাড়া করা বাসায় নিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে।

তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে হোটেলে নিয়েও শারীরিক সম্পর্ক করেছে ওসি। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বিশেষ শাখায় ও ভোলাহাট থানায় কর্মরত থাকাকালেও আমাদের সম্পর্ক ছিল। এক পর্যায়ে ওসির স্ত্রী আমাদের সম্পর্কের কথা জেনে ফেললে আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

ত‌বে প্রথমদিকে ওসির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সময় জানায়, তার স্ত্রীকে তিনি ডিভোর্স দিয়েছে এবং আমাকে বিয়ে করতে চায়। যার কারণে আমি তার প্রতি সরল বিশ্বাস রেখে সম্পর্ক এতদূর পর্যন্ত নিয়ে গেছি। পরে জানতে পারি, তি‌নি তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দেয়নি। সে যোগাযোগ বন্ধ করতে চাইলেও আমি যোগাযোগের চেষ্টা অব্যহত রাখি। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি তাকে বিয়ের দাবিতে ভোলাহাট থানায় যায়। এ সময় আমাকে বেধড়ক মারধর করে ও পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা শারীরিকভাবে নির্যাতন করে।

এর আগে বিয়ের দাবিতে থানায় অনশন করার কথা জানিয়ে তিনি আরও দাবি করেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভোলাহাট থানায় গেলে ওসি নিজে এবং থানার কনস্টেবল ও ড্রাইভার দিয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর করে। আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় এবং বিয়ের দাবিতে অনশন করলে ৫৪ ধারায় পুলিশের কাজে বাধাদানের অভিযোগে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। পরে সাত দিন কারাগারে থাকার পর ফিরে এসে জব্দ হওয়া মোবাইল থানা থেকে ফেরত এনে দেখি, ওসি আমাদের কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও সবকিছু মুছে দিয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করছে।

অভিযুক্ত সেলিম রেজা চৌধুরীর বড় ভাই আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, আমার ভাই (সেলিম রেজা) এ বাড়িতে থাকে না। এই মেয়েটা আমার ভাইয়ের জীবন শেষ করে দিয়েছে। ওর অভিযোগের কারণে ভাই ওসি পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়ে আছে।

সেলিম রেজার স্ত্রী ইয়াসমিন পপি বলেন, আমার স্বামী বিয়ে করবে না। এজন্য যা হয় হোক।

নওগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান (মজনু) বলেন, শুনেছি একজন মেয়ে নাকি বিয়ের দাবিতে চৌধুরী বাড়িতে এসেছে। তবে একজন ওসি হিসেবে কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় নারী সংক্রান্ত বিষয়ে জরিয়ে পড়া সত্যিই দুঃখজনক।

তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, এক নারীর অনশনের বিষয়টি আমি ৯৯৯ এর মাধ্যমে জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি।

ঘটনাস্থলে যাওয়া তাড়াশ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বদিউজ্জামান বলেন, ওই নারী বিয়ের দাবিতে সেলিম স্যারের বাসায় এসেছে। তিনি ওই বাড়ি থেকে যেতে চাচ্ছেন না।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি।

আরও খবর

Sponsered content