আওয়ামীলীগ

দেশব্যাপী প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে‘বঙ্গমাতা’

  প্রতিনিধি ৭ আগস্ট ২০২৩ , ৩:০৭:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ

বিনোদন ডেস্কঃ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে ঘাতকের হাতে নিহত হন বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যা বাঙালি জাতির সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক স্মৃতি। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সুবেহ সাদিকের সময় যখন ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে বুলেটের বৃষ্টিতে ঘাতকরা ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল, তখন বৃষ্টি ঝরছিল। তা যেন ছিল প্রকৃতিরই অশ্রুপাত। ভেজা বাতাস যেন কেঁদেছে সমগ্র বাংলায়। সেই কান্না আজও শেষ হয়নি। ব্যথাতুর স্মৃতিতে বাঙালির হৃদয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আজও অমলিন। নানা ঘটনা প্রবাহে আবারও এসেছে আগস্ট। সেই শোকাবহ আগস্টের সপ্তম দিন আজ।

১৯৭৫ সালের ৭ আগস্ট ছিল বৃহস্পতিবার। বিভিন্ন লেখা থেকে জানা যায়, এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় সুইজারল্যান্ডের নতুন রাষ্ট্রদূত পরিচয়পত্র পেশ করেন বঙ্গবন্ধুর কাছে। সকাল সাড়ে ১০টায় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী নুরুল ইসলাম চৌধুরী, ১১টায় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজী সাক্ষাৎ করেন। বেলা ১২টায় বিদেশ সফরের প্রাক্কালে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। বিকাল সাড়ে ৫টায় ভারতের হাইকমিশনার সমর সেন সাক্ষাৎ করেন। সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুল আওয়াল এবং ৬টা ১০ মিনিটে সংসদ-সদস্য কাজী মোজাম্মেল হক সাক্ষাৎ করেন জাতির পিতার সঙ্গে।

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়। ১৫ আগস্ট ছিল পুনরায় পাকিস্তানকে প্রতিষ্ঠিত করার নীলনকশা। ১৫ আগস্ট ছিল একটি পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, বাঙালির স্বাধিকারকে অস্বীকার করার প্রয়াস। ১৫ আগস্ট ছিল আমাদের আত্মপরিচয়ের ওপর আঘাত করা। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ করেছিল, ঠিক সেভাবেই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার নির্দোষ, নিরীহ, নিরস্ত্র পরিবারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ঘাতকচক্র। যেমনটা ১৪ ডিসেম্বর ঘরে ঘরে ঢুকে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল।

ঘাতকরা শুধু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুকেই নয়, সেদিন একটি আদর্শ ও মূল্যবোধ্যের সমাধি রচনা করতে চেয়েছিল। কবর দিতে চেয়েছিল দেশপ্রেম ও মেধাভিত্তিক রাজনীতির। এসব কারণে এ আগস্ট আমাদের কাছে অত্যন্ত বেদনার মাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হলেন সেই নেতা, যিনি জন্মগ্রহণ না করলে আমরা প্রিয় মাতৃভূমি পেতাম না, জাতীয় সঙ্গীতও হতো না।

কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর প্রতিবেশী। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তার ক্ষতবিক্ষত হৃদয় থেকে উৎসারিত হয়েছিল সারা দেশের শোকগ্রস্ত মানুষের মনের কথা-এই বাংলার আকাশ-বাতাস, সাগর-গিরি ও নদী/ডাকিছে তোমারে বঙ্গবন্ধু, ফিরিয়া আসিতে যদি/হেরিতে এখনও মানবহৃদয়ে তোমার আসন পাতা/এখনও মানুষ স্মরিছে তোমারে, মাতা-পিতা-বোন-ভ্রাতা।

আরও খবর

Sponsered content