সারাদেশ

ভোলার চরফ্যাশনে মায়ের পরিবর্তে ছেলে শিক্ষক, স্কুলে না গিয়ে বেতন তুলছেন প্রদান শিক্ষক

  প্রতিনিধি ৫ জুন ২০২৩ , ১১:৫৭:২৩ প্রিন্ট সংস্করণ

রুবেল আশরাফুল, চরফ্যাশন (ভোলা):

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মুজিব নগর ইউনিয়নের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক হাজির না হয়েও বেতন তুলছেন নিয়মিত।ওই ইউনিয়নে ১০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে ১৮২ নং স্কুলটিতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারিরা স্কুলে উপস্থিতি থাকেন বছরে ১০ থেকে ১২ দিন। শুধু এখানেই শেষ নয়, প্রধান শিক্ষক, সরকারি ভাবে স্কুল ও শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ বিভিন্নভাবে উত্তোলন করে তা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকা বাসি। এর সাথে জড়তি রয়েছে চরফ্যাশন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্তারা। তবে অনিয়মের দ্রুত ব্যবস্থা নেওযার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় গুলোতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কাগজে কলমে ২/৩ শ থাকলেও উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে ৩/৫ জন। উপস্থিত শিক্ষীকা লিপি বেগম তা স্বীকারও করেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকরা নিয়মিত না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা-পড়া ও শিক্ষার মান এখন শুন্যের কোঠায়। দুর্গম চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পুজি করে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম করে বেডাচ্ছেন শিক্ষকরা। তাই নিরুপায় হয়ে পাশের ধর্মীও প্রতিষ্ঠানে শিশুদের ভর্তি করেন অবিভাবকরা।

ওই ইউনিয়নের আরো একটি স্কুলে গিয়ে দেখা যায় সেখানে বদলি শিক্ষকসহ স্কুলে দু-একজন শিক্ষক রয়েছে। এর মধ্যে একজন শিক্ষক লুঙ্গি পড়ে আসতে দেখে সন্দেহ হয় প্রতিবেদকের। কৌতুহলের বশবর্তী হয়ে জিজ্ঞেস করলে অকপটে স্বীকার করেন মায়ের পরিবর্তে এসেছেন স্কুলে। একাধিক সূত্র বলছে চরাঞ্চলের এসব স্কুলগুলোতে প্রথম দিকে যে সমস্ত শিক্ষকরা নিয়োাগ পেয়েছে তারা লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে চরাঞ্চল ছেড়ে উঠে এসেছে শহরাঞ্চলে। এরপরে যাদের নিয়োগ হয়েছে তারা বলা চলে ঘরে বসেই বেতন-ভাতা তুলছেন। তবে এ তালিকায় প্রধান শিক্ষকরাই শীর্ষে রয়েছেন।
এসব শিক্ষকদের সুবিধা-অসুবিধা দেখার জন্য উপজেলা সদরে ক্ষমতাধর ব্যক্তিও রয়েছে একাধিক। যাদের ক্ষমতার দাপটে চরাঞ্চলের মানুষ তেমন একটা মুখ খুলতে চায় না। শিকদার চর ১৮২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাইনুদ্দিন সোহাগকে স্কুলে না পেয়ে মুঠোফোনে অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তবে তার কিছুক্ষণ পরেই সোহাগ নামে এক কতিপয় নেতা মুঠোফোনে মাইনুদ্দিন সোহাগের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে ওই সাংবাদিককে মারধরের হুমকি দেন। প্রধান শিক্ষক মাইনুদ্দিনের স্কুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ না থাকলেও যোগাযোগ রয়েছে নিজের চাকরি বাঁচাতে ভুঁইফোড় নেতাদের সাথে। যারা অনিয়মের কথা তুলে ধরবেন তাদেরকে শাসাতেই ব্যবহার করা হয় ভুঁইফোড় নেতাদের।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক গভর্নিং বডির সভাপতি সম্পাদক জানিয়েছেন স্কুল ও শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ বিভিন্নভাবে উত্তোলন করে তা হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। চরের এই স্কুলগুলোর কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জানে না কোন স্কুলে কোন ক্লাসে পড়ছে তারা।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুল ইসলাম জানান, খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষকদের অনিয়মের কারণে শিক্ষকরা যেনো স্কুল ফাঁকি দিতে না পাড়ে সেজন্য প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপ এর মাধ্যমে ভার্চুয়ালি মনিটরিং করা হবে স্কুলগুলোতে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল নোমান জানান, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে প্রযােজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content